অ্যাশেজ জয় অজিদের
অ্যাশেজে এবারও দাপট দেখাল অস্ট্রেলিয়া। ২০২৫-২৬ অ্যাশেজ সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে অজিরা। এবারের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়া এক-দুটি ম্যাচে নয়, বরং পাঁচ টেস্টের সবকটিতেই অসাধারণ নৈপুণ্যে নিজেদের জাত চিনিয়েছে স্মিথ-স্টার্করা। এবারের সিরিজ শুধু অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডে আটকে ছিল না। যেন হয়ে উঠেছিল বাজবল বনাম বাস্তবতার লড়াইও। শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসিটা হেসেছে অস্ট্রেলিয়াই। এর ফলে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ জয়ের অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ হলো।-খবর তোলপাড়।
ইংল্যান্ড অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করতে পারবে কিনা তার উত্তর এখন সময়ের হাতে। তবে তাদের লক্ষ্য ২০২৭ সালের অ্যাশেজ সিরিজ জয় করা। ইসিবি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য চুলচেরা বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। যেখানে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, প্রস্তুতি এবং কৌশল পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বেন স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ‘বাজবল’ ক্রিকেট দলকে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, যা অ্যাশেজেও কাজে আসতে পারে। সেজন্য বেন স্টোকসের মতো অলরাউন্ডার এবং অন্যান্য প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের উপর ভরসা রাখছে ইংল্যান্ড। তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন আলোচনার তুঙ্গে থমাস রিউ। যার বয়স মাত্র ২১ বছর ১১৪ দিন। গত বছর ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম ক্লাস ক্রিকেটে ১০টি শতরানের ইনিংস উপহার দেওয়ার অবিস্বরণীয় কীর্তি গড়েন তিনি। এরপরই সমারসেটের এই ব্যাটারকে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে ডাকা হয়। তরুণ এই প্রতিভাবান ক্রিকেটারে এখন আলাদাভাবে নজর রাখছে ইংল্যান্ড।
এয়াড়াও বাড়তি নজর রাখছে আসা ট্রাইবের উপর। দেশটির উদীয়মান ক্রিকেটার ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবং অফ ব্রেক বোলার। বর্তমানে গ্ল্যামারগান ও ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের হয়ে খেলছেন। কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন এবং ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরেও ডাক পেয়েছেন। জার্সি থেকে উঠে আসা এই তরুণ ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেন এবং বর্তমানে সেই পথে এগোচ্ছেন।
২০২৫ সালে তিনি গ্ল্যামারগানকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টু জিততে সাহায্য করেন এবং ইয়াং প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। থমাস রিউ এবং আসা ট্রাইব ছাড়াও ফারহান আহমেদ ও রেহান আহমেদের উপরও বাড়তি নজর রাখছে ইংল্যান্ড। এই দুই তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারও ইতোমধ্যে নিজেদের মেলে ধরেছেন দারুণভাবে।
তরুণ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ২০২৭ সালের অ্যাশেজ জয়ের লক্ষ্যে ইংল্যান্ড আরও কিচু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে। যার মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি। ২০১০-১১ সালের পর ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো অ্যাশেজ টেস্ট জিততে পারেনি। এসব বাধা অতিক্রম করে ভবিষ্যতের জন্য নতুনভাবে দল ঘোচাতে সব ধরণের চেষ্টাই করবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।
অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করতে তারা এখন থেকেই বদ্ধপরিকর। সেইসঙ্গে তাদের কৌশল ও খেলোয়াড়দের নিয়েও আশাবাদী। সেজন্য চলতি বছরটা তাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে তাদের পারফরম্যান্স এবং কৌশলগত পরিবর্তনই বলে দিবে আগামী অ্যাশেজ সিরিজ তারা পুনরুদ্ধার করতে পারবে কী না।









Chief Editor-Dipali Rani Roy