রাজবংশী ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পরিষদে আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর ও সদস্য সচিব প্রণব
পিএম সৈকত:
গুগল মিট প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন সভার মাধ্যমে ‘রাজবংশী ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পরিষদ’-এর আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। শুক্রবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুক্ত হয়েছেন রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত বিশিষ্ট কবি, গীতিকার, সুরকার, শিল্পী, গবেষক, শিক্ষক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সচেতন জনসাধারণ। মোট ১০১ জন প্রতিনিধির সক্রিয় অংশগ্রহণে গঠিত হয় এই নতুন কমিটি। যা রাজবংশী ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সংগঠনটি কবি প্রণব কুমার সত্যব্রত-এর আহ্বানে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাজবংশী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। তাঁর উদ্যোগেই বিভিন্ন স্তরের ভাষাপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে এই ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের সূচনা ঘটে।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কালী রঞ্জন বর্মন। তিনি বলেন, একটি ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি জাতিসত্তার পরিচয় ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের সংগ্রামকে তিনি সময়োপযোগী ও ন্যায্য দাবি হিসেবে অভিহিত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবংশী লেখক ও গবেষক ড. মাখন রায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. অশোক বিশ্বাস ।
গীতিকার একেএম মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব রাজারহাট’র সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, প্রভাত রঞ্জন রায়(ব্যাংকার), নির্মলেন্দু রায়, কবি মূকুল রাজ, সুদেব রায়, রুপু মজুমদার(শিল্পী) ও সাহস মোস্তাফিজ। পরে সর্বসম্মতিক্রমে গীতিকার একেএম মোস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক ও প্রণব কুমার সত্যব্রতকে সদস্য সচিব এবং সত্যেন্দ্রনাথ রায়কে যুগ্ম আহ্বায়ক করে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবেন।
এই কমিটির মূল লক্ষ্য রাজবংশী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য সাংগঠনিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন গড়ে তোলা। পাশাপাশি রাজবংশী ভাষার চর্চা, গবেষণা, প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আয়োজন, তরুণ প্রজন্মকে ভাষা শিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করা হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারী সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে মত প্রকাশ করেন যে, রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতি আদায় কেবল একটি ভাষাগত দাবি নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গবেষণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।









Chief Editor-Dipali Rani Roy