বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কুলির টাকায় নির্মিত সেতু : ২ যুগের দুর্ভোগের অবসান অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও চকলেট দিলো জাতীয় নাগরিক পার্টি এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের স্বস্তি দিতে ছাত্রদলের মানবিক উদ্যোগ তিনদিন আগে সিজার, নবজাতক রেখে পরীক্ষার হলে মা স্ট্রমি ফাউন্ডেশন নরওয়ের প্রতিনিধি দলের কুড়িগ্রামে ইএসডিও’র সীড্স কর্মসূচী পরিদর্শন আরও যেসব জেলায় তেল মিলবে ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপে পাকিস্তানে আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই, ঘোষণা ট্রাম্পের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের তালিকায় মনোনয়ন পেল ১৩ জন যাত্রা শুরু করলো বগুড়া সিটি করপোরেশন পুলিশের এএসআই পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
স্বাগতম:
বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিউজ পোর্টাল দৈনিক তোলপাড় পত্রিকায় প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

বেজি সাথে মানুষের বন্ধুত্ব

প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৫

আব্দুল মালেক:
সভ্যতার অগ্রগতিতে যখন বন্য প্রাণীদের অস্তিত্ব সংকট চলছে, তখন বেজির সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব সত্যিই বিস্ময়কর ঘটনা। দেখে সিনেমার চিত্রনাট্য মনে হলেও বাস্তবে সত্যি। কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার রাজারাম ক্ষেত্রী গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে দুলাল মিয়া জঙ্গল থেকে একটি বেজির বাচ্চা ধরে নিয়ে আসে বাড়িতে।

এরপর তার বাবা শুকুর আলী বেজির বাচ্চাটিকে খাঁচায় রেখে খাওয়ান।‌ আদর করে নাম রেখেছেন রুপালি। শুকুর আলী উলিপুর-নাজিম খাঁন সড়কের নারিকেল বাড়ি স›ন্যাসী তলায় চা-বিস্কুট দোকান করেন। দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই তিনি খাঁচায় করে বেজিটিকে দোকানে নিয়ে এসে ছেড়ে দেন। এরপর রুপালি নামে ডাক দিলে দৌড়ে চলে আসে। দুধ, কলা, বিস্কুট অথবা সমুচা খেয়ে আবার দোকান এবং পার্শ^বর্তী এলাকায় ঘুরে বেড়ান। খিদে পেলে দোকানে এসে পিছনে পিছনে ঘুরেন এবং বিভিন্ন জায়গায় লাফালাফি শুরু করে দেয়।

সন্ধ্যা হলে খাঁচায় তুলে বাড়িতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর খাঁচা ব্যবহার না করে বেজিটিকে শুকুর আলী বাড়ি থেকে হেঁটে দোকানে নিয়ে আসে এবং দোকান থেকে হেঁটে বাড়িতে নিয়ে যান। এখন বেজিটি বাড়িতে যাওয়া আসার ভয়ে থাকে কুকুরের আক্রমন। দিন যতই যাচ্ছে বেজি আর শুকুর আলীর বন্ধুত্ব ততই বাড়ছে। শুকুর আলী স্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে একদিন বেজিটিকে গোসল করে দেন। ঘটনাটি লোকমুখে জানাজানি হলে বিভিন্ন এলাকার মানুষজন বেজি আর মানুষের বন্ধুত্ব দেখার জন্য দোকানে আসেন। এরমধ্যে কেউ কেউ বিস্কুট, সমুচা, কলা খেতে দেন। বেজিটি এ পর্যন্ত কাউকে কামড়, হাঁচড় সহ কোন ক্ষতিও করেনি।

প্রতিবেশী সবুজ মিয়া জানান, শুকুর আলী পশু পাখি প্রেমী। শুধু বেজি নয়। এর আগে তিনি জঙ্গলের ইঁদুরকে পোষ মানিয়েছিলেন। এখনো মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়ানো পাখিকে হাতে করে খাবার খাওয়ান। তার এগুলো দেখে আমরা আশ্চর্য।

এ বিষয়ে শুকুর আলী বলেন, মানুষ হয়ে মানুষের কথা শোনে না, মানে না। অথচ বনের পশু কথা শোনে, মানে। আমি মানুষকে দেখানোর জন্য বেজিটিকে ছোট থেকে পুষতেছি। নাম রেখেছি রুপালি। এখন আমার সাথে হেঁটে বাড়ি থেকে দোকান যাওয়া আসা করে। যখনই নাম ধরে ডাকি যেখানেই থাক আমার কাছে চলে আসে। বর্তমানে আমি ওকে সন্তানের মতো লালন পালন করতেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর