রংপুরে জুলাই শহিদ দিবস ও শহিদ আবু সাঈদের ১ম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত
পিআইডি, রংপুর :
রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস, ২০২৫ ও শহিদ আবু সাঈদের ১ম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার (১৬ই জুলাই) সকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে দিবসটি উপলক্ষ্যে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদের পিতা মোঃ মকবুল হোসেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের শহিদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মোঃ মকবুল হোসেন শহিদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শহিদের হত্যার দ্রুত বিচারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল বলেন, সত্য, ন্যায় ও আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আবু সাঈদের আত্মত্যাগ আমাদের সকলের মধ্যে আন্দোলনের স্পৃহা যুগিয়েছিল। তিনি আবু সাঈদ হত্যার বিচার প্রসঙ্গে বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেই বিচার সম্পন্ন করা হবে।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ভয়ের সংস্কৃতি ভেঙ্গে দিয়ে ফ্যাসিস্ট পতনে শহিদ আবু সাঈদ, ইয়ামিন ও মুগ্ধরা ছিল অগ্রসৈনিক। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশে অপরাধ নির্মূল করা হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুজ্জামান শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। জুলাই-আগস্টের রংপুর অঞ্চলের রক্তাক্ত ঘটনা ও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য রোধে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্পের কথা তোলে ধরেন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মহাঃ তৌহিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ রাশেদুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মজিদ আলী, রংপুরের জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, রংপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইম, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
অনুষ্ঠানের শেষে আবু সাঈদসহ ২২ জন শহিদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয় এবং আবু সাঈদ কর্নার উদ্বোধন করা হয়।
এরপূর্বে পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ার বাবনপুর গ্রামে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করা হয়। এরপর বেরোবির প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে কালো ব্যাজ ধারণ ও শোকর্যালির আয়োজন করা হয়। শহিদ আবু সাঈদ গেটে শহিদ আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়াম এবং পার্কের মোড়ের শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে শহিদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।









Chief Editor-Dipali Rani Roy