শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন:

বাংলাদেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চাই জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার বিকল্প নেই।-খবর তোলপাড়।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অমর একুশে বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার মেলা নয়, এটি আমাদের মেধা ও মননের প্রতীক। বায়ান্নর ভাষা শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আজকের এই মেলা।” তিনি আরও বলেন, “জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়।”

বইমেলার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন হয়, তবে বাংলাদেশের বইমেলা ভিন্ন। এটি মাতৃভাষার অধিকার আদায় ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক। তবে প্রতি বছর মেলার আকার বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ এবং পাঠাভ্যাস বাড়ছে কিনা, সে বিষয়ে ভাবনার অবকাশ আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জার্মান দার্শনিক মার্কুইস সিসেরোর উক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।” বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায়, এমনকি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করে।

তবে বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আসক্তিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, “স্ক্রিনে পড়ার চেয়ে কাগজের পাতায় কালো অক্ষরে জ্ঞানের গভীরতা উপভোগ করার আবেদন অনন্য।” যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০২টি দেশের পাঠাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। “আমাদের নাগরিকরা বছরে গড়ে তিনটির মতো বই পড়েন এবং বই পড়ার পেছনে সময় ব্যয় করেন মাত্র ৬২ ঘণ্টা। এই চিত্র বদলাতে হবে,” বলেন তিনি।

অমর একুশে বইমেলাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বইমেলাকে সারা বছর দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে একটি মানবিক, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। পরে ফিতা কেটে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর