সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

রৌমারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম / ২৭ টাইম ভিউ
Update : মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০২৪

সংবাদদাতা, কুড়িগ্রাম:

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের প্রচারণা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইমান আলী এবং তার কর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলায় এক নারী চা দোকানির দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটের ঘটনাও ঘটেছে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার (৬ মে) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ এলাকার সাহিদার মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমান আলীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুর রহমান বঙ্গবাসীর আত্মীয় ও যাদুরচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত মামুনের দাবি, ইমান আলী রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকা বিতরণ করছিলেন। খবর পেয়ে তারা কয়েকজন মোটরসাইকেল যোগে সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে ইমান আলীর লোকজন মামুন ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলা চালায়। মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল মামুন আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী (টেলিফোন প্রতীক) মজিবুর রহমান বঙ্গবাসীর ভাতিজি জামাই। আর ইমান আলী উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি। তিনি ব্যাটারি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

হামলার শিকার চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমান আলী বলেন, সোমবার এশার নামাজ শেষে দুই-তিনজন কর্মীসহ সাহিদার মোড়ে সাহিদার চায়ের দোকানে বসি। এ সময় যাদুরচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়দানকারী মামুন নামে এক যুবক কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের ঘেরাও করে। তাদের হাতে রড ছিল। তারা বলে যে আমরা নাকি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছি। তখন আমি বলি, যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকি, তাহলে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দাও। আর আমরা যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকি, তাহলে এভাবে এসে তোমরাও লঙ্ঘন করছ? এটা বলার পরই আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা দোকানে আশ্রয় নিলে তারা দোকান ভাঙচুর করে। আমাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমার ভাতিজা জাকির আহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা দোকানের মালপত্র তছনছ করেছে। ক্যাশে থাকা টাকা লুটে নিয়ে গেছে। আমি বিষয়টি তাৎক্ষণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাই। তিনি ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাদের উদ্ধার করেন।

হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে ইমান আলী বলেন, হামলাকারীরা পরিচিত মুখ। তারা ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারী এবং প্রতিপক্ষ মজিবুর রহমান বঙ্গবাসীর লোকজন। আমি এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেবো।

রাতে টাকা বিতরণ করা নিয়ে প্রতিপক্ষের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইমান আলী বলেন, ‘সেখানে আরও লোকজন ছিল। সবাই আসল ঘটনা জানে। আমি নিজেও আচরণবিধি সম্পর্কে ভালো জানি। তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ভুক্তভোগী চায়ের দোকানি সাহিদা বলেন, ব্যাটারি মার্কা (ইমান আলী) আসছে। আসি কইতাছে চাচি চা বানাও। ইতিমধ্যে দুইটা-তিনটা চ্যাংড়া (যুবক) কোনটে থাকি আসিয়া অমনি সগারে মাইর ওসসাইছে (পেটানো শুরু করছে)। এগলা দেখি সরি গেছি। ইয়ার মধ্যে আমি সারা দিন যা বেচাকেনা করছি, ট্যাকাপয়সা সবগুলা নিয়া গেইছে। আমার দোকানপাট হামলা দিয়া নিয়া গেইছে। তিনি তার দোকানের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

তবে চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ঘটনার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইমান আলীকে দায়ী করে বলেন, ইমান আলী রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাকা বিতরণ করতে বের হয়েছেন। এই খবর পেয়ে মামুন সেখানে গেলে তারা মামুনের ওপর হামলা চালায় এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আমি এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেবো।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রার্থী ইমান আলীর অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দলবদ্ধ জনতাকে সরিয়ে দিয়েছি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমাদের সামনে কোনও হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। প্রার্থী ইমান আলীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে হামলা ও ভাঙচুরের আলামত পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তার উত্তর এড়িয়ে যান এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি বলেন, আমাদের সামনে হামলা বা ভাঙচুর ঘটেনি। কারও অভিযোগ থাকলে আমাদের লিখিতভাবে জানাতে বলেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর